প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 21, 2026 ইং
ধোনিদের কোচ হলেন জহির খান

আইপিএলের পরবর্তী আসরের আগে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) তাদের প্রধান কোচ হিসেবে ভারতের সাবেক ফাস্ট বোলার জহির খানকে নিয়োগ দিয়েছে। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন। ফ্লেমিং ২০০৯ মৌসুম থেকে টানা ১৮ বছর প্রধান কোচের দায়িত্ব পালনের পর এই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
চেন্নাই-ভিত্তিক এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচিং স্টাফ বা নেপথ্য দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যুক্ত হতে পেরে জহির অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে ভারতের সাবেক সতীর্থ ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার এমএস ধোনির সঙ্গে আবারও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ভারতের সাবেক অধিনায়কের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার ছিলেন জহির। ওই বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট শিকার করে দলের জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এক বিবৃতিতে জহির খান বলেন, আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সফল একটি দলের অংশ হতে পারাটা সম্মানের বিষয়। ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে আমি সিএসকের মুখোমুখি হয়েছি এবং সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো দারুণ উপভোগ করেছি। চিপক স্টেডিয়ামে দলের ‘সুপারফ্যান’ বা কট্টর ভক্তরা যেমন পরিবেশ তৈরি করেন, তা এই অভিজ্ঞতাকে আরও বিশেষ করে তোলে। এমন সমৃদ্ধ ইতিহাস-সমৃদ্ধ একটি ঐতিহ্যবাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
ক্রিকেটার হিসেবে জহির খান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ১০০টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৭.৫৮ ইকোনমি রেটে ১০২টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (বর্তমানে বেঙ্গালুরু)-এর হয়ে তার যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (বর্তমানে ক্যাপিটালস)-এর হয়েও খেলেছেন।
লিগ থেকে অবসর নেওয়ার পরেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৯ সালের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (এমআই) ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট অপারেশনস’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া সম্প্রতি, শ্রীরামপুরে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর হিসেবেও এক মৌসুম (২০২৫) দায়িত্ব পালন করেছেন।
কোচ হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে চেন্নাই সুপার কিংসের মালিক রূপা গুরুনাথ বলেন, জহির খান চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। জহিরের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবন এবং তরুণ প্রতিভাদের গড়ে তোলার প্রমাণিত দক্ষতা তাকে আমাদের দলের জন্য এক মূল্যবান সংযোজন করে তুলেছে। আমরা নিশ্চিত তার নির্দেশনা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাশি বিশ্বনাথন বলেন, জহির একজন বিশ্বমানের বোলার এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অনেক তরুণ ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। খেলোয়াড় হিসেবে ২০০০-এর দশকে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন জহির। তিনি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা একজন চিন্তাবিদ এবং তাকে আমাদের পরিবারে স্বাগত জানাতে আমরা উন্মুখ হয়ে আছি।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।